মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগসমুহ

প্রশাসন বিভাগ

একটি প্রতিষ্ঠানের কাজের অনুকূল পরিবেশ, স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও সার্বিক সফলতা প্রধানত নির্ভর করে তার প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা জনবল-ব্যবস্থপনা, দূরদর্শিতা ও পারঙ্গমতার উপর। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশাসন বিভাগ ক্ষেত্রে সফলতার সাত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বিশাল মহীরূহসদৃশ এই প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় প্রশাসনিক ও সহস্থাপন কাজ, জনবল নিয়োগ, বোর্ড অব গভর্নরস এর সভা আহবান এবং এতদসংক্রান্ত ফলোআপ, ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় সহ মাঠ পর্যায়ের অফিসে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়মের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, অফিসের যানবাহনসমূহের সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং মহাপরিচালক মহোদয় কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য কাজকর্ম সম্পাদন করা এ বিভাগের দায়িত্ব।

 

সমন্বয় বিভাগ

সমন্বয় বিভাগ ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। সমন্বয় বিভাগের মাধ্যমে ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়সহ মাঠ পর্যায়ের, বিশেষ করে বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় সমূহের সকল কার্যক্রম তত্ত্বাবধান, সমন্বয় সাধন ও পর্যালোচনা করা হয়। তাছাড়া, এ বিভাগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এবং দায়িত্বসমূহ নিম্নরূপ:

বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের জন্য বাস্তব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং তদনুযায়ী বাজেট প্রস্তাব প্রণয়ন, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় মনিটরিং করা ; ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, অন্যান্য মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক নির্দেশিত সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্যাদি সংগ্রহের ব্যবস্থা করা, গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ এবং প্রতিকার সংক্রান্ত বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের কার্যক্রম মনিটরিং করা, জাতীয় দিবস সমূহ যেমন ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা) উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন সুপারভিশন ও মনিটরিং করা, কেন্দ্রীয় সমন্বয় সভা এবং মাসিক সমন্বয় সভা আহবান ও বাস্তবায়ন করা, বিভাগীয়, জেলা ও মিশন কার্যালয়সমূহ থেকে চাঁদ দেখার সংবাদ প্রেরণ করা, জাতীয় পর্যায়ে শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন করা, জেলা কার্যালয়ের জন্য ভবন নির্মাণ/জমি ক্রয়/ এতদসংক্রামত্ম মামলা-মোকদ্দমা তদারকি করা। ৮টি হোমিও দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনা করা, হজ্জযাত্রী সংগ্রহ, মউশিক কার্যক্রম, মসজিদ পাঠাগার স্থাপন, যৌতুক প্রতিরোধ, শিশু ও নারী পাচার রোধ, জাতীয় টিকা দিবস, পরিবেশ ও বনায়ন, এইডস ও মানববিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা,প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিষয়ে মুসল্লীগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করাসহ সময়ে সময়ে সরকার নির্দেশিত যাবতীয় কাজ সম্পাদন করা; ভ্রাম্যমান কুরআন পড়তে শেখানা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, পবিত্র রমজান মাসে (১লা রমজান থেকে ৩০ রমজান পর্যন্ত); ১৫ আগষ্ট জাতির জনকের শাহাদাত দিবসে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কুরআনখানি ও দোয়ার আয়োজন, পবিত্র মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও জাতীয় সমস্যা সমাধানে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রালী (চলমান বিষয়ভিত্তিক); ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিতস জাতির জনকের জন্ম দিনে উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী-হেফজ প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা, জাতীয় পর্যায়ে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান; ২ মে মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন। সামাজিক ইস্যু, জাতীয় সমস্যা সমাধানে ইমাম, ওলামা-মাশায়েখগণের মাধ্যমে দেশব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টি বিষয়ক সভা-সমাবেশ ও মহাসমাবেশের আয়োজন; মাযার শরীয় ও খানকাজ-এর তত্ত্ববধায়কগণের সমন্বয়ে প্রত্যেক উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যয়ে সম্মেলন বাসত্মবায়ন করা, পরিচালক, সমন্বয় এই বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন।

 

অর্থ ও হিসাব বিভাগ

All the Accounts and Financial activities are performed, maintained the relevant records, Budget preparation, internal audit of various departments and preparing reports are the main responsibilities of this department. Accounts and audit related policy  submission, implementation and control of expenditure are accomplished by this department. Director of finance and accounts is the head of this department.

 

অনুবাদ ও সংকলন বিভাগ

কুরআনুল কারীমের অনুবাদ, তাফসীর, হাদীসগ্রন্থ ও ইসলামের বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ে বিভিন্ন ভাষায় লিখিত প্রসিদ্ধ ক্লাসিক্যাল এবং আধুনিক গ্রন্থাদি অনুবাদ ও সংকলন বিভাগের মাধ্যমে সিহাহ্ সিত্তাহর পূর্ণাঙ্গ সেট, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসাই শরীফসহ মুয়াত্তা ইমাম মালিক ও মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মদ, তাজরীদুস সিহাহ্ (পুনরাবৃত্তিমুক্ত সহীহ হাদীস) ইত্যাদি হাদীসগ্রন্থের অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া অনুবাদ ও সংকলন বিভাগ থেকে তাফসীরে মারেফুল কুরআন, তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে ইবনে কাছীর, তাফসীরে তাবারী, মাজেদী, তাফসীরে মাযহারী, তাফসীরে উসমানী, তাফসীরে ইবনে আববাস, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, আল-হিদায়া এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, সীরাতে ইবনে ইসহাক, সীরাতে ইবনে হিসাম, গুনইয়াতুত তালেবীন, হাদীসশাস্ত্র বিশারদ ইমাম আবু হানিফা (র), মুকাদ্দমা ইবনে খালদুন, ইসলামে শিশু পরিচর্যা এবং আসাহহুস সিয়ার, সীরাতুল মুস্তফা এর বাংলা অনুবাদসহ সীরাত বিষয়ক ১২টি গ্রন্থ প্রিকাশিত হয়েছে। এ পর্যন্ত এ বিভাগ থেকে ৩৭১ টি পুস্তক প্রকাশিত হয়েছে। তাফসীরে কাবীর ও তাফসীরে রম্নহুল মা’আনী ও সাফাওয়াতুত তাফসীর এর কয়েকটি খন্ড প্রকাশিত হচ্ছে। একজন পরিচালক এ বিভাগের দায়িত্বে থাকেন।

 

 

পরিকল্পনা বিভাগ

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সকল উন্নয়ন ও রাজস্ব খাতের প্রকল্প প্রণয়ন, মূল্যায়ন, পক্রিয়াকরণ, পরিবীক্ষণ, প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি পর্যলোচনা করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্প কার্যালয়কে সহযোগিতা প্রদান করা এ বিভাগের কাজের অন্তর্ভুক্ত। পরিকল্পনা বিভাগের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ অবমুক্তি, মনিটরিং, সুপারভিশন, এডিপি ও আরডিপি, প্রকল্প সমাপ্তি প্রববেদন প্রণয়ণ, পরিসংখ্যাগত তথ্যাদি প্রণয়ন, মাসিক, ত্রৈমাসিক ষান্মাসিক ও বার্ষিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট তৈরি করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, আইএমইডি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করাসহ উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের নির্ধারিত আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতির লক্ষ্যে যাবতীয় কার্যক্রম অত্র বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত হয়ে থাকে। একজন পরিচালক বিভাগীয় প্রধান হিসাবে এই বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

 

ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অন্যতম একটি বিভাগ হচ্ছে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিমাল, দিনাজপুর ও সিলেট এই ৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও মুয়াজ্জিনগনকে ইসলামের মৌলিক বিষয়  সম্পর্কে জ্ঞান দানের পাশাপাশি গণশিক্ষা,পরিবার কল্যাণ, কৃষি ও বনায়ন, প্রাণী সম্পদ পালন ও মৎস্য চাষ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও প্রাথমিক চিকিৎসা, বৃক্ষ রোপন, বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি, পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি, বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচিতি, ব্যবহারিক ও মৌখিক ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদেরকে উপার্জনক্ষম এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার মত উপযুক্ত করে গড়ে তোলাই ইমাম প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে সারা দেশে ১৯৫ জন জনবলের মাধ্যমে উক্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

 একজন পরিচালক উক্ত বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। উল্লেখিত প্রশিক্ষণ ছাড়া ও ইউএনএফপি-এর অর্থানুকূলে ‘মানব সম্পদ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্তকরণ’ প্রকল্পের আওতায় প্রজনন স্বাস্থ্য, শিশু ও মাতৃমঙ্গল,এইডস প্রতিরোধ, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ, যৌতুক বিরোধী সচেতনতা বৃদ্দি, জেন্ডার ইকুইটি ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ইমামগণ প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রাখছেন। শুরু থেকে ৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ৮০,৯৮৪ জন ইমামকে পশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। নিয়মিত ৪৫ দিনের প্রশিক্ষণ জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে ২৫,১৭৩ জন ইমামকে রিফ্রেসার্স কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিস ব্যবস্থাপনা এবং নৈতিক মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত মোট ১৩,০৫২জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ৮৮৮ জন ইমাম, মাদ্রাসার ছাত ও বেকার যুবককে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং ৩১,৩৪৮ জন ইমামকে মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ইউএসএআউডি এর অর্থায়নে দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ১৫,৭০৩ জন ইমামকে লির্ডাস অব ইনফ্লুয়েন্স (এলওআই) প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে ৬,৪৪৮ জন ইমামকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ২,০৪০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী, ইমাম ও খতিবকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ডিজিটালে রুপান্তর ও ডিজিটাল আকাইভ স্থাপন প্রকল্পের অর্থায়নে বেশিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া ৪০০জনকে মানবাধিকার ৫৮২ জনকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ১৫০ জনকে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধকরণ, ১০০০ জনকে নিরাপদ অভিবাসন ও ১৫০ জনকে মসজিদের মোতাওল্লীসহ ও ম্যারিজ রেজিস্টার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। উপরোক্ত বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণের আওতায় মোট ১,৬৫,৪১৮ জনকে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী থেকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

প্রকাশনা বিভাগ

ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলি, কুরআনও কুরআন সম্পর্কিত মহানবী (সা) এর সীরাত ও হাদীস সম্পর্কিত, ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, ইসলামের আইন, তাফসীর, কুরআন, হাদীস, দর্শন, মুসলিম মনীসীদের জীবনী, ইসলামী অর্তনীতি, নারী, যৌতুক, মানবাধিকার ও শিশু-কিশোর উপযোগী চরিত্র গঠনমূলক সাহিত্য ইত্যাদি বিষয়ে পুস্তক প্রকাশের মাধ্যমে ইসলামী আর্দশ, মূল্যবোধ ও শিক্ষার প্রচার ও প্রসার এ বিভাগের প্রধান কাজ। এ উদ্দেশ্যে প্রকাশনা বিভাগ এ পর্যন্ত প্রায় চার হাজারের মতো শিরোনামের পুস্তক প্রকাশ করেছে। সেই সঙ্গে এ বিভাগ থেকে‘‘সবুজ পাতা’’ নামে একটি শিশু-কিশোর মাসিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ হয়ে আসছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত পুস্তকের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে  সাথে পুনর্মুদণের হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে কুরআনুল করীমের বাংলা অনুবাদের ৫১তম সংস্করণ মুদ্রিত হয়েছে। তাফসীর,সীরাত,জীবনীগ্রন্থ,ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও শিশুতোষ গ্রন্থগুলো ২ থেকে ২০ বার পর্যমত্ম এই বিভাগ থেকে পুনর্মুদ্রণ হয়েছে।

প্রকাশিত যাবতীয় পুস্তক ও পত্রিকা বিক্রয় করাও এ বিভাগের দায়িত্ব। প্রকাশিত পুস্তকের স্টোর ব্যবস্থাপনার কাজও বিভাগ করে থাকে। পরিচালক,প্রকাশনা এ বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন।

ইসলামী প্রকাশনা প্রকল্পঃ

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চলমান প্রকাশনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং অধিক চাহিদা সম্পন্ন পুস্তকাদি প্রকাশ এবং পুনর্মুদ্রনের লক্ষ্যে ২০১২-২০১৩ অর্থ বছর থেকে ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছর মেয়াদে ৮৩২.০০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১৮৭ টি পুস্তক প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া ২০০ পুস্তকের মুদ্রণ কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাসিক ‘অগ্রপতিক’ (সৃজনশীল পত্রিকা) এ প্রকল্পের আওতায় প্রকাশিত হয়। একজন প্রকল্প পরিচালক এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন।

ইসলামী বিশ্বকোষ বিভাগ

দেশের ভবিষ্যাত ও প্রথিতযশা ইসলামী চিন্তাবিদ, আলিম, বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক ও দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ কর্তৃক মৌলিকভাবে লিখিত, অন্য ভাষা থেকে অনুদিত ও সম্পাদিত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বিষয়াবলী সম্বলিত বাংলায় ‘ইসলামী বিশ্বকোষ’ প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়। বাংলায় ২ খন্ডে সমাপ্ত সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ সহ ২৮ খন্ডে সমাপ্ত বৃহত্তর ‘ইসলামী বিশ্বকোষ’ প্রকাশিত হয়েছে। ইসলামী বিশ্বকোষ দ্বিতীয় সংস্করণ ও পূনর্মুদ্রণের কাজ চলছে। ইতোমদ্যে এ ৭টি খন্ড প্রকাশিত হয়েছে। ‘সীরাত বিশ্বকোষ’ নামে ১৫ খন্ডে সমাপ্য প্রকাশের কাজ চলছে। এতে আম্বিয়ায়ে কিরাম (আ:), রাসুল (সা) এ জীবনী স্থান পাবে। সীরাত বিশ্বকোষের ১৪টি খন্ড প্রকাশিত হয়েছে এবং খন্ডটি শীগ্রই প্রকাশিত হবে। আল-কুরআনুল কারীমে ব্যবহৃত শব্দাবলীর আলোকে ‘‘আল-কুরআন কারীম সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ’ শিরোনামে মোট পাঁচ খন্ডে সমাপ্য বিশ্বকোষ প্রনয়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে এর ২টি খন্ড প্রকাশিত হয়েছে। অত্র বিভাগ থেকে ভবিষ্যতে সাহাবায়ে কিরাম বিশ্বকোষ, তাবে-তাবেয়ীন বিশ্বকোষ, আউলিয়ায়ে কেরাম বিশ্বকোষ ইসলামী শিশু-কিশোর বিশ্বকোষ, তাসাউফ বিশ্বকোষ এবং আরবী পরিভাষা বিশ্বকোষ প্রণয়ন ও প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিচালক, ইসলামী বিশ্বকোষ এই বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন।

গবেষণা বিভাগ

ইসলামের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে গবেষণাকর্ম পরিচালনা ও প্রকাশনা, গবেষণালব্দ বিষয়াবলি পুস্তকারে প্রকাশ এবং গবেষণামূলক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এ বিভাগের অন্যতম প্রধান কাজ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ইসলামের প্রচার ও প্রসারের ইতিহাস, দেশবরেণ্য সাহিত্যিক ও ইসলামী চিন্তাবিদগণের জীবন ও কর্ম, আল-কুরআনে অর্থনীতি, Scientific Indications in the Holy Quran, Muslim Contribution to Science & Tecnology সহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মূল্যবান গ্রন্থ গবেষণা বিভাগের মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম, ছোটদের বিশ্বকোষ, বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন, আল-কুরআনের বিষয়ভিত্তিক আয়াত, জরম্নরী ফাতওয়া, ও মাসাইল শীর্ষক গ্রন্থ এর মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া হাদীস ও সামাজিক বিজ্ঞান, হাদীসের আলোকে হানাফী মাযহাবের তত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মাসাইলে আহনাফ, আরবী-বায়লা ও বাংলা-আরবী অভিধান, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে গ্রন্থাদি প্রণয়নসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষনা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। গবেষণা বিভাগ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৩০টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিদগ্ধ গবেষকদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন, তাদের গবেষণা কর্ম মূল্যায়ন ও গবেষক সৃষ্টির জন্য সহায়ক পরিবেশ উন্নয়ন এবং নতুন নতুন গবেষণার ক্ষেত্রে যেমন ইসলামী ব্যাংকিং, জাতীয় পাঠক্রম, ইসলামী দাওয়াত ও সংস্কৃতির মূলধারা ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা’ শীর্ষক একটি গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক পত্রিকাও এ বিভাগের তত্ত্বাবধানে বিগত ৫৩ বছর যাবত নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। পরিচালক, গবেষণা এ বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন।

দীনী দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ

ইসলামের শিক্ষা, আর্দশ ও মূল্যবোধের প্রচার ও প্রসার, ধর্মীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসসমূহ উদযাপন, সাহাবায়ে কিরাম (রা), মুসলিম মনীষী ও জাতীয় নেতৃবৃ্ন্দের স্মরণ সভা এবং ইসলামের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা সভা, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, তাফসীর, দরসে হাদীস, বিষয় ভিত্তিক ওয়াজ মাহফিল, ঈদ পুনমিলনী, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা) প্রভৃতি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী গহন ও পরিচালনা, স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিতব্য কিরাআত ও হিফজ প্রতিযোগিতা বাছাই সহ ইসলামের শিক্ষা ও আর্দশ প্রচারের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাসত্মবায়ন করা দীনী দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের অন্যতম কাজ। এ ছাড়া এ বিভাগ জাতীয় পর্যায়ে ফিতরা নির্ধারণ ও ঘোষণার ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির যাবতীয় আয়োজন এ বিভাগ থেকে হয়ে থাকে। এ কমিটি গঠিত হয় মহামান্য রাস্ট্রপতির আদেশে। এ কমিটিতে দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম, আবহাওয়াবিদ, মহাকাশবিজ্ঞানী এবং উর্দ্ধতন সরকারী কর্মকর্তাগণ রয়েছেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এ কমিটির সভাপতি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক এ কমিটির সদস্য সচিব। জাতীয় গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয়ে কুরআন, হাদীস ও ফিকাহর আলোকে সঠিক নির্দেশনা এবং সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা ও জনসাধারনের ধর্মীয় বিসয়ে জিজ্ঞাসার জবাব দানের জন্য রয়েছে তাফসীর, হাদীস ও ফাতওয়া শাখা। এ শাখার মুফতী, মুহাদ্দিসও মুফাসসির পদে তিন জন বিশেষজ্ঞ আলেম দায়িত্ব পালন করছেন। ধর্মীয় বিসয়ে প্রকাশিত বইয়ের ব্যাপারে মতামতও এ বিভাগ থেকে দেয়া হয়ে থাকে। বিশ্ব বাণিজ্যে বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ তেকে রপ্তানীযোগ্য খাদ্য, পানীয় ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্য সুনির্দিস্ট প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা পূর্বক ‘‘হালাল সনদ’’ প্রদান করার দায়িত্ব পালনার্থে এই  বিভাগের আওতাদীন একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। বাণিজ্য উন্নয়নের লক্ষ্য এর কার্য পরিধি ও কর্ম তৎপরতা দিন দিন বেড়ে চলছে।

১৯৯৪ সাল হতে ২০১৪ সাল পর্যমত্ম প্রাপ্ত তৎানুযায়ী দীনী দাওয়াত ও সংস্কৃতি  বিভাগের অধীনের নির্বাচিত প্রতিযোগীগণ সৌদি আরব, দুবাই, লিবিয়া, মালয়েশিয়া ইরান, মিশর, জর্দান, তুরস্ক, আলজেরিয়া, ভারত, পাকিসত্মান ও কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত আমত্মর্জাতিক হিফজ,কিরআত, তাফসীর ও ইমাম মুবালিস্নগ প্রতিযোগিতায় ১ম, ২য়, ৩য় স্থানসহ বিভিন্নসত্মরে পুরস্কার পেয়েছেন। তাদের প্রাপ্ত পুরস্কারের পরিমাণ বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৪১ (একচলিস্নশ) কোটি ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ্য টাকা এবং স্বর্ণমুদ্রার পরিমাণ সর্বমোট ৩৬০ ভরি।

বাংলাদেশ ও মিশর সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে পারস্পারিক সহযোগিতার লক্ষ্য মিশর সরকারের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণবৃত্তি নিয়ে আল-আযহার চুড়ান্ত নির্বাচনের প্রক্রিয়া এই বিভাগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহীদের যথাযথ আবেদনের প্রেক্ষিতে তাযকিয়া বা প্রশংসাপত্র দেওয়া হয়। এ বিভাগের অধীনে পরিচালিত আধুনিক আরবী ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ ভাষা ইনস্টিউটে উন্নীত করা হয়েছে। এ বিভাগের অধীনে মহিলা শাখা নারী সমাজের মাঝে ইসলামের প্রচার ও প্রসার এবং ইসলামী আর্দশ ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে কাজ করে।

দীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের মাধ্যমে আমত্মর্জাতিক পর্যায়ে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল প্রেরণ করা হয়। ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কিত বিষয়াদির সম্মেলন, বক্তৃতামালা, বির্তক ও সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়। বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাকার জন্য আমত্ম:ধর্মীয় সংলাপ অয়োজন করা হয়। পবিত্র কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য সরকারীভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। একজন পরিচালকের তত্ত্বাবদানে এ বিবাগের যাবতীয় কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হয়। 

ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী

ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষনাসহ সর্বসতরের জনগণের মধ্যে ইসলামী জ্ঞান বিকাশের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরীর কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীটি বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোনে সাহানের উপর অবস্থিত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে হযরত উসমান (রা) এর সময়ের হাতে লেখা পবিত্র কুরআন শরীফ ‘‘মাসহাফে উসমানী’র ছায়ালিপি, রাজশাহী জেলার বাসিন্দা সাকুল শিক্ষক মোহাম্দ হামিদুজ্জামান এর হস্ত লিখিত ৬১ কেজি ওজনের ১১০০ পৃস্ঠায় উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ পবিত্র কোরআনুল কারীম, চট্টগ্রামের বাসিন্দা জনৈক মফিজুল হক নূরী এর লিখিত কুরআনের ছায়ালিপি, অন্ধদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে কুরআন শরীফ,বার্মিজ, তাজিকি, আসাম (বাংলা), লেবানিজ এবং ইন্দোনেশিয়ান ভাষা ভাষীদের জন্য কুরআন শরীফের অনুবাদ গ্রন্থসহ বিভিন্ন ছাপায় পবিত্র কুরআন শরীফ, তাফসীর গ্রন্থ, হাদীস গ্রন্থ, ইসলামী সাহিত্য, চিকিৎসা বিজ্ঞান, ইসলাম ও বিজ্ঞান, ইসলামী অর্থনীতি, ইসলামী দর্শন, ইসলামের ইতিহাস, ইসলামী আইন, বিভিন্ন ভাষায় অভিধান ও বিশ্বকোষ এবং সাহিত্যসমূহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রায় ১,২৩,০০০ (এক লক্ষ তেইশ হাজার), পুস্তক ও পুস্তিকা রয়েছে। এ লাইব্রেরীটি বর্তমানে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামিক পাবলিক লাইব্রেরী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এ ছাড়া দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও সাময়িকী মিলিয়ে নিয়মিত প্রায় ৫০টি পত্রিকা রাখা হয়। লাইব্রেরী ভবনের নীচতলায় বাংলাদেশের কৃস্টি কালচার ও ইসলামী কৃস্টি কালচারের সমন্বয়ে সৌন্দর্যমন্ডিত একটি প্রদর্শনী হল রয়েছে। উক্ত প্রদর্শনী হলে মহান আলস্নাহ তা’আলার ৯৯টি গুনবাচক (আসমাউল হুসনা) নাম সমূহের ৩৫টি পোস্টার ও হযরত মুহাম্মদ (সা) এর জীবনীমূলক (বংশ পরিচয় থেকে শুরম্ন করে ওফাত সহ) ১৩টি পোস্টারসহ সর্বমোট ৪৮টি পোস্টার রয়েছে। সকল পাঠক গবেষকদের জন্য উক্ত প্রদর্শনী হল পরিদর্শন করার সুযোগ রয়েছে। উক্ত ৪ তলা বিশিষ্ট লাইব্রেরীর প্রতিটি ফ্লোরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত আলাদা আলাদা পাঠকক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে। সম্প্রতি লাইব্রেরীতে অটোমেশন কার্যক্রম অর্থাৎ কম্পিউটারের মাধমে যাবতীয় লাইব্রেরী সেবা প্রদানের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাছাড়া লাইব্রেরীর জন্য ওয়েবসাইট চালু করে লাইব্রেরীকে দেশ-বিদেশের পাঠকদের নাগালের পৌছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফলে বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে যে-কোন পাঠক ইন্টারনেট এর মাধ্যমে লাইব্রেরী থেকে জরুরী প্রয়োজনে ফটোকপি সার্ভিস প্রদান করা হয়। লাইব্রেরীর নতুন ভবনে ১টি লিফট  ও ১টি মিনি জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে। লাইব্রেরীর সকল কার্যক্রম সিসি টিভি (ক্যমেরা) এর আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে একজন লাইব্রেরীয়ান এই বিভাগের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম শীর্ষক প্রকল্প:

‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্প ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ প্রকল্প। এ প্রকল্পর ১ম পর্যায়ের শ কার্যক্রম অনুযায়ী ১৯৯৩ সালে শুরু হয়ে ধারাবাহিকভাবে বর্তমান সময় পর্যন্ত (৫ম পর্যায়) চলমান রয়েছে। সরকারী বিধি মোতাবেক প্রকল্পটির ১ম পর্যায় শেষ হয় ১৯৯৫ সালে। এ পর্যায়ে মোট ৭৪,৮৮০ জন শিশু ও বয়স্ক শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষাদান করার লক্ষমাত্রা নির্ধারিত থাকলেও জন-চাহিদার প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত আরও ১৯,৭১০ জন সহ মোট ৯৪,৫৯০ জন শিশু ও বয়স্ক শিক্ষার্থীদেরতে শিক্ষা প্রদান করা হয়। তদ্রম্নপ দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত ১,১২,৩০০ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৭,২৩,৮৮০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষাদান করা হয়। প্রকল্পের শিক্ষা কার্যক্রম-এর ১ম ও ২য় পর্যায় সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে জুলাই ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল মেয়াদ সম্প্রসারিত আকারে ৩য় পর্যায় প্রকল্প গৃহীত হয়। ধারাবাহিকভাবে চলমান ও প্রকল্পটির আওতায় ৩য় পর্যায়ে ৬৪ জেলার ২৫৬ টি উপজেলায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল যার মাধ্যমে ১৬,৪৩,০৪০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদান করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সাল তেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে ৪র্থ পর্যায় প্রকল্প গৃহীত হয় যার মাধ্যমে ২৯,৩৭,৬০০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাক-প্রাথমিক ও পবিত্র কুরআন শিক্ষা প্রদান করা হয়।প্রকল্পটির আকার পর্যায়ক্রমে বৃদ্দি পেয়ে বর্তমানে ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ দেশের শিক্ষা সম্প্রসারনের ক্ষেত্রে যুযোপযোগী ভুমিকা পালন করে আসছে। এ প্রকল্পে মসজিদের ইমামগণ মসজিদ কেন্দ্রে শিশু ও বয়স্ক  শিক্ষার্থীদেরকে বাংলা, অংক, ইংরেজি, আরবী নৈতিকতা ও মূল্যবোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দান করছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত স্থানে এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তার ও কোর্স সম্পন্নকারীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার বৃদ্দির ক্ষেত্রে উলেস্নখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হচ্ছে। এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী অধিকাংশই সমাজের অবহেলিত, দরিদ্র ও নিরক্ষর জনগোষ্ঠী। এ শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় প্রতিটি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ জন, সহজ কুরআন শিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ জন ও বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ জন।

মূলত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ও শিক্ষা বিস্তারের কাজে মসজিদের ইমাম সাহেবদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকার ১৯৯৩ সালে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক এবং ঝড়ে পড়া (ড্রপ-আউট) কিশোর-কিশোরী ও অক্ষর জ্ঞানহীন বয়স্কদের জন্য মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। সকলের সক্রিয় সহযোগিতায় ১৯৯৩-২০০৮ সাল পর্যন্ত এ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রমের ইতোমধ্যে ৪টি পর্যায় শেষ হয়েছে। উক্ত ৪টি পর্যায়ে (১ম পর্যায় হতে ৪র্থ পর্যায় পর্যন্ত) ৫৩,৫৮,৭৫০ জনকে শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে প্রকল্পটির ৫ম পর্যায়ের কার্যক্রম কলেবরে বৃদ্ধি করে ১ম দফায় জানুয়ারী/২০০৯ হতে ডিসেম্বর/২০১৩ মেয়াদের জন্য ৬৪৩ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গৃহীত হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় ১ম সংশোধিত প্রকল্প হিসেবে তা ৩১ ডিসেম্বর/২০১৪ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করে ৭৬৮ কোটি ৩৩ লক্ষ ব্যয়ে গৃহীত হয়ে যথযথাভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে ইতোমধ্যে ৫ম পর্যায়ে শিক্ষাবর্ষ জানুয়ারী ২০০৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ৩১,৮০,০০০ জন,সহজ কুরআন শিক্ষা পর্যায়ে ২১,০০,০০ জন ও বয়স্ক শিক্ষা পর্যায়ে ৯৬,০০০ জন সহ মোট ৫৩,৭৬,০০০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দান করা হয়েছে যার অগ্রগতি ১০০%। এ হিসেবে প্রকল্প কার্যক্রম শুরু অর্থাৎ প্রথম পর্যায় ১৯৯৩ সাল হতে ৫ম পর্যায়ের ২০১৩ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, সহজ কুরআন শিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষা সহ মোট ১ কোটি ৭  লক্ষ ৩৪ হাজার ৭৫০ জনকে শিক্ষাদান করা হয়েছে। চলমান ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ২০১৪ শিক্ষাবর্ষ শেষ হলে ১১ লক্ষ ৫৯ হাজার ২০০ জনকে শিক্ষা দানসহ প্রকল্প শুরুর প্রথম পর্যায় হতে ২০১৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত সর্বমোট ১ কোটি ১৮ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯৫০ জনকে শিক্ষা দানের কাজ সম্পন্ন হবে। এছাড়াও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং ধর্মীয় পুস্তক পাঠদানের জন্য ৪৮৫টি মডেল ও ১০৫১ ডঁ সাধারণ রিসোর্স সেন্টার পরিচালিত হয়ে আসছে।  এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় পরিচালিত ‘মসজিদ ভিত্তিক মিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ শীর্ষক প্রস্তাবিত ৬ষ্ঠ পর্যায় প্রকল্পে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ভর্তির হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশব্যাপী ৩২,০০০টি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৪৪,১০,০০০ জন শিশু শিক্ষার্থীকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, বয়স্ক সত্মরের শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে ৭৬৮টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৯৬,০০০ জন বয়স্ক (পুরুষ, মহিলা এবং জেলকানার কয়েদী) নিরক্ষরকে স্বাক্ষরতা  এবং ধর্মীয় শিক্ষা এবং ৪১,০০০টি সহজ কুরআন শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৫১,১০,০০০ জন স্কুল গামী শিক্ষার্থী ও ঝড়ে পড়া কিশোর-কিশোরীদের শুদ্ধভাবে পবিত্র কুরআন শরীফ শিক্ষাদান ও বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা শিক্ষা প্রদান করা হবে। এছাড়া নব্য ও স্বল্প শিক্ষা প্রাপ্তদের জন্য জীবনব্যাপী (অব্যাহত) শিক্ষা চর্চা ও বিভিন্ন বিষয় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সারাদেশের ৫২০ টি রিসোর্স সেন্টার পরিচালনা করা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে ৮১০৬৭ জন জনবলের নিয়মিত-অনিয়মিতভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃস্টি করা হবে। সর্বমোট ৭৩৭৬৮ টি শিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা এবং ৯৬,১৬,০০০ জনকে শিক্ষা প্রধান করা হবে। শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। শিক্ষা কেন্দ্র ও রির্সোস সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে ৭৭৬৩৫ জন জনবলের নিয়মিত ও অনিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। লক্ষ্য মোতাবেক সকলের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা সৃস্টি এবং সচেতনতা সৃস্টি করা হবে। 

 

মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প-১ম সংশোধিত

 

"মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ-১ম সংশোধিত" শীর্ষক প্রকল্প ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর একটি অন্যতম গুরম্নত্বপূর্ণ প্রকল্প। জুন ২০১৬ পর্যন্ত্ম সারাদেশে ২৭৮৩২টি মসজিদ পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৪৫০০টি বিদ্যমান পাঠগারে পুস্ত্মক সংযোজন করা হয়েছে এবং ৬৫০০টি পাঠাগারে পুস্ত্মক সংরÿণের জন্য আলমারী ও শোকেস প্রদান করা হয়েছে। তন্মধ্যে ৬৪টি জেলায় ৬৪টি মডেল পাঠাগার এবং ৪৭৭টি উপজেলা মডেল মসজিদ পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। সমাজে জনগণের মধ্যে পবিত্র কুরআনুল করীম ও ইসলামী পুস্ত্মকের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, নৈতিক অবÿয় রোধ, ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞান আহরোণ ও মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয়াদি বিবেচনা নিয়ে বর্তমানে জুলাই ২০১২ থেকে জুন ২০১৭ পর্যন্ত্ম ৫ বছর মেয়াদী "মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ-১ম সংশোধিত" শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ১৮৭৪.০০ লÿ টাকার ডিপিপি বরাদ্দ রাখা হয় যা দ্বারা ২৫০০টি নতুন পাঠাগার স্থাপন, ২৫০০টি পাঠাগারে সরবরাহকৃত পুস্ত্মক সংরÿণের জন্য ২৫০০টি আলমারী প্রদান করা হবে। বিগত ৪ (চার) অর্থ বছরে ইতোমধ্যে ২০০০টি নতুন ও ২০০০টি পাঠাগারে আলমারী সরবরাহ করা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে ৫০০টি মসজিদ পাঠাগার স্থাপন পূর্বখ পুস্ত্মক ও আলমারী সরবরাহ করা হবে। এছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় পুরাতন/উন্নত ১০৮২০টি পাঠাগারে ১(এক) সেট (১০ খন্ড একত্রে) করে পবিত্র বোখারী শরীফ বিতরণ করা হবে 

 

আইসিটি বিভাগ

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় ICT বিভাগ-এর কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্যাদি

        Information & communication technology মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রূত বিস্তার হওয়া একটি প্রযুক্তি। বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলি সমাজভিত্তিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি গঠনের লক্ষে তাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ও শক্তি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের সঙ্গে মানিয়ে চলার লক্ষে সরকার “Vision-2021”  ঘোষনা দেন এবং Information & communication technology policy-2009  অনুমোদন করেন “Vision-2021” এ সরকার ৫টি বিষয়ের প্রতি অগ্রাধিকার দেন, যার  মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- ভালো সরকার প্রতিষ্ঠা করা, যা বিবৃত করা হয় এভাবে-   ‘‘ Rights to Information & e-governance will be introduced” অথ্যাৎ তথ্য অধিকার এবং ই-গর্ভনেন্স চালু করা। উপরন্তু সরকার বাংলাদেশকে একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ হিসেবে দেখতে চায়, যেখানে সরকারী নথিপত্রগুলোকে কম্পিউটারাইজড করা অত্যন্ত জরুরী/আবশ্যক।

   এসব বাস্তবায়নের লক্ষে ‘‘ICT- নীতিমালা-২০০৯’’-এ কিছু কৌশল অন্তরভুক্ত করা হয়েছে। এগুলো নিম্নরুপ:

 ১। সরকার সরকারী অফিসগুলোর মধ্যে সফলভাবে তথ্য আদান - প্রদানের জন্য আমত্ম- সংযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

 ২। সরকারী কর্মচারীদের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সঠিক নেতৃত্ব নিশ্চিতকরনের লক্ষে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে তাদের পারিশ্রমিক/ সেবা প্রদান করা।

 ৩। ICT-র উপর ভিত্তি করে সকল সরকারী তথ্যসমূহ সহজভাবে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রদানের নিশ্চিত করন।

 ৪। সরকারী চাকরিগুলোতে ICT শিক্ষা, ট্রেনিং নিশ্চিত করা।

 ৫। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ধর্মের পরিপোষকের জন্য সাংস্কৃতিক বিষয়গুলোর উন্নয়ন সাধন এবং সংরক্ষন নিশ্চতকরন।
 

             ইসলামিক ফাউন্ডেশন র্ধম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অধীনে একটি স্বায়িত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান যা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ১৯৭৫ সালের ২২-শে মার্চ এক অধ্যাদেশ বলে ইসলামের, শিক্ষা, আর্দশ ও মূল্যবোধের প্রচার ও প্রসারের লক্ষে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয় সহ সারা দেশে মোট ৬৪টি জেলা কার্যালয়, আর্তমানবতার সেবায় ৩১টি মিশন এবং ৭টি ইমাম প্রশিক্ষন একাডেমী রয়েছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রকার পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ ও রাজস্ব খাতভূক্ত কর্মসুচী বাস্তবায়ন করছে।

সরকার ঘোষিত “Vision-2021” এবং ICT policy-2009 বাস্তবায়নের লক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমস্ত প্রোগ্রাম ও অফিস কার্যক্রমকে কম্পিউটার প্রযুক্তিতে রুপান্তর করা অত্যন্ত প্রয়োজন এবং এর সব অফিসগুলোর মধ্যে ডিজিটাল নেটওর্য়াক স্থাপন করতে হবে।

 ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ই- গভর্নেন্সের আওতায় এর প্রধান কার্যালয় ঢাকা অফিস এবং সংযুক্ত অন্যান্য অফিসের মূল কার্যক্রমগুলোকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে। ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিদিনের কার্যক্রম এবং এর প্রায় সমসত্ম মৌলিক ও গুরত্বপূর্ণ কার্যসমূহকে সুবিধা প্রদান করা। এই সিস্টেমের আওতায় প্রয়োজনীয় সকল ডাটা বা তথ্য সংরক্ষন করা হবে যা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিদিনের কার্যক্রমসমূহ সহজে সম্পাদনের জন্য ব্যবহৃত/চালিত হবে। এছাড়াও ইনফরমেশন সিস্টেমস দ্বারা বিভিন্ন পরিসংখ্যানগত এবং বিশ্লেষনধর্মী রিপোর্টের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহনের সুবিধা প্রদান করবে যা পরবর্তীতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সময়ে-সময়ে প্রয়োজন হতে পারে।

উপরোক্ত বিষয়াদির উপর লক্ষ রেখে ২০১০-২০১১ অর্থবছরে পরিচালিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ডিজিটালের রূপান্তর  ইনফরমেশন সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত করার নিমিত্বে ‘‘ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ডিজিটালে রূপান্তর ও ডিজিটাল আর্কাইভ স্থাপন’’ প্রকল্পের সূচনা হয় । কিন্তু প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ যথাসময়ে ছাড় না হওয়ায় প্রকল্পটি যথাযথ ২০১১-২০১২ এবং ২০১২-২০১৩ অর্থ বছর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। প্রকল্পের উলিস্নখিত সময়ের মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে ডিজিটালাইজ করার ব্যাপারে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ডিজিটাল প্রকল্পের আওতায় যেসব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলোঃ

ডিজিটাল প্রকল্পের আওতায় সম্পাদিত কার্যাবলিঃ-
 

  1. প্রকল্পের আওতায় এ পর্যমত্ম ৩৪৮টি ডেস্কটপ কম্পিউটার, ৩৪৮টি ইউ.পি.এস, ১০২টি  প্রিন্টার, ১৪টি নেটওয়ার্ক প্রিন্টার এবং ৩টি ল্যাপটপ ক্রয় করা হয়েছে।
  2. প্রকল্পের প্রধান কার্যালয়ে ৩২টি কম্পিউটার ও ল্যাপটপকে ইন্টারনেট  সংযোগের আওতায় আনা হয়েছে।
  3. প্রকল্পের মেয়াদকালীন সময়ের মধ্যে আরো ৭৭টি ল্যাপটপ, ৬৪টি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ১২৪টি স্ক্যানার এবং ২টি সারভার ক্রয়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
  4. প্রকল্পের জনবলের আওতায় একজন প্রোগ্রামার ও একজন সহকারী প্রোগামার, একজন মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার ও একজন সহকারী মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার কর্মরত আছেন। এছাড়াও ৭ জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ১ জন অফিস সহকারী ও ৫জন এম.এল.এস.এস নিয়োগ করা হয়েছে।
  5. ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে ডায়নামিক ডেভেলপ করা হয়েছে এবং নিয়মিত চাহিদা মোতাবেক এর বিষয়বস্ত্ত হালনাগাদ করা হয়েছে।
  6. ‘‘Mosque Information Management Software” বা মসজিদ জরিপ ফরম ডেভেলপ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নিয়মিত ডাটা এন্ট্রির কাজ চলছে।
  7. ‘‘Hifz khana Information Management Software” বা মসজিদ জরিপ ফরম ডেভেলপ করা হয়েছে।
  8. ‘‘Imam database & Training Management System” বা মসজিদ জরিপ ফরম ডেভেলপ করা হয়েছে।
  9. বায়তুল মোকাররম মসজিদের জন্য তৈরীকৃত ‘Car Parking Management Software’ ডেভেলপ করা হয়েছে এবং সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
  10. ‘Digital Archieve’তৈরীর লক্ষে ফিল্ড ভিজিটের মাধ্যমে প্রাথমিক ডাটা এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এছাড়াও ঐতিহাসিক ইসলামিক বই ডিজিটাল ফরমেট সংরক্ষণের কাজ চলছে।
  11. ডিজিটাল প্রকল্পের আওতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। ট্রেনিংয়ের আইটেমগুলো হচ্ছে- Basic Computer Training, Ms-Office Packege  & Software Training.( ইতোমধ্যে এ পর্যমত্ম ১৫১৭ জনকে ট্রেনিং প্রদান করা হয়েছে।)
  12. ডিজিটাল প্রকল্প ও ICT সেলের আওতায় ‘Digital Archieve’ তৈরীর লক্ষে একটি অত্যাধুনিক Digital Studio গঠন করা হয়েছে।
  13.  ইতিমধ্যে ICT সেলের আওতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীর ৭টি বিভাগীয় অফিসকে ভিডিও কনফারেন্সিং সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

    ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব হাবিবুল আউয়াল-এর সভাপতিত্বে গত ২১/০১/২০১৩ তারিখে ‘‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ডিজিটালে রূপান্তর ও ডিজিটাল আর্কাইভ স্থাপন প্রকল্প ’’ স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি পর্যালোচনার লক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয় । উক্ত সভায় প্রকল্পের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনে তথা প্রকল্পের আইটি জ্ঞান সম্পন্ন জনবল দিয়ে প্রকল্প সমাপ্তির পূর্বে আইসিটি সেল স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। উক্ত আইসিটি সেলের প্রধান কাজ হবে ডিজিটাল প্রকল্পের আওতায় সম্পাদিত কার্যাবলীর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনে সরকারের  ‘‘Vision-2021”  এবং ICT policy-2009 এর সফল বাস্তবায়ন।

প্রস্তাবিত আইসিটি সেল ডিজিটাল প্রকল্পের কি কি কার্যাবলির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে অথবা আইসিটি সেলের প্রধান কার্যাবলি কি হবে তার একটি তালিকা নিম্নে দেওয়া হলোঃ

আইসিটি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং আইসিটি বিভাগের প্রধান কার্যাবলী

হার্ডওয়্যার/নেটওয়ার্ক ইউনিটঃ

১. ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জন্য আইসিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের উন্নয়ন।

  • প্রধান কার্যালয়ের সকল কম্পিউটার, স্ক্যানার, প্রিন্টার, ইউপিএস ইত্যাদি সার্ভিসিং এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইন্সটলেশন করা।
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হেড অফিসের Local Area Network (LAN) উত্তর উত্তর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষন করা। হেড অফিসের সমস্ত নতুন ও পুরাতন কম্পিউটার গুলো LAN এর আওতায় নিয়ে আসা এবং ইন্টারনেট সহ অন্যান্য network সুবিধাদি প্রদান করা।
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে WiFi স্থাপনের মাধ্যমে এর আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে।
  • প্রধান কার্যালয়সহ ৬টি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী কেন্দ্রে মোট ৭টি ভিডিও কনফারেন্স সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। এ সকল ভিডিও কনফারেন্স সরঞ্জামাদি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।

সফটওয়্যার ইউনিটঃ

১. ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডাইনামিক ওয়েব পোর্টাল    http://www.islamicfoundation.org.bd/” পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষন করা।

১.১ ওয়েবসাইটের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা।

১.২ ওয়েবসাইটে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সম্পর্কিত সবরকম তথ্য এবং ইসলামি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড প্রদানের নিমিত্তে নতুন নতুন পরিসেবা সন্নিবেশিত করা।

১.৩ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রেস রিলিজ/নোটিশ/নিউজ/বিজ্ঞপ্তি/অফিস আদেশ/বদলি আদেশ ইত্যাদি নিয়মিত ভিত্তিতে প্রকাশ করা।

১.৪ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বই, পত্রিকা, অফিস সম্পর্কিত তথ্য, ডিপার্টমেন্টকর্মকর্তা ও কর্মচারী তথ্য ইত্যাদি ওয়েবসাইটে নিয়মিত হালনাগাদ করা।

১.৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন আবেদনফরম ওয়েবসাইটে সংযোজন (জনসাধারণের জন্য) করা এবং ইফার সকল চলমান ও অননুমোদিত প্রকল্পের তালিকা হালনাগাদ করা।

১.৬ মহাপরিচালক মহোদয়, আলেম-ওলামা, গবেষক এবং ইফার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীসহ বিভিন্ন টকশো ও অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র ও ভিডিওচিত্র নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা।

২. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং a2i প্রকল্পের সহযোগিতায় ইফার নতুন একটি ওয়েব পোর্টাল (http://islamicfoundation.portal.gov.bd) তৈরী করা হয়েছে। পোর্টালটিতে সকল বিভাগের তথ্য প্রদানের কাজ চলছে এবং ওয়েবসাইটের ন্যায় অন্যান্য সকল তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা।

৩. ইফাঃ ডিজিটাল প্রকল্প কর্তৃক প্রস্ত্ততকৃত মসজিদ সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা সফট্ওয়্যার (http://www.islamicfoundation.org.bd/mosquedb) এর সকল জেলার ডাটা এন্ট্রির কাজ সম্পন্ন ও রক্ষণাবেক্ষন করা।

৪. ইফাঃ ডিজিটাল প্রকল্প কর্তৃক প্রস্ত্ততকৃত ইমাম সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা সফট্ওয়্যার (http://www.islamicfoundation.org.bd/imam) এর উন্নয়ন, ডাটা এন্ট্রি ও রক্ষণাবেক্ষন । 

৫. ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব মেইল সার্ভার (http://mail.islamicfoundation.org.bd/webmail/) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।

৬. ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী কাস্টমাইজ (Customized) সফট্ওয়্যার এর উন্নয়ন, ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও রক্ষণাবেক্ষন করা।

৭. ICT বিভাগের আওতায় পরিচালিত Digital Studio-র মাধ্যমে অনুষ্ঠান ধারণ ও রক্ষণাবেক্ষন ।

৮. মোবাইলের মাধ্যমে ইসলামী তথ্য সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা।

৯. কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা।

ল এন্ড এস্টেট বিভাগ

আগারগাঁওস্থ প্রদান কার্যালয়, বায়তুল মুকাররম মসজিদ ও মার্কেটের স্থায়ী সম্পত্তি, আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদ কমপ্লেক্স, জামিয়াতুল ফালাহ কমপ্লেক্স, হেতেম খাঁ জামে মসজিদের সম্পত্তির পরিসংখ্যান রক্ষণাবেক্ষণ, সংরক্ষণ, সম্পত্তি সংক্রামত্ম মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ এবং অন্যান্য বিষয়ে মামলাসমূহ পরিচালনাসহ ফাউন্ডেশনের সকল স্থায়ী সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ল এন্ড এস্টেট বিভাগ খোলা হয়। একজন পরিচালক এ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রেস

ইসলামের প্রচার প্রসারের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ইসলামী বই ও পত্র-পত্রিকা। সেই লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ইসলামী পুস্তক, পত্র পত্রিকা ও সাময়িকী প্রকাশনার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর নিজস্ব একটি ছাপাখানা স্থাপন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব মুদ্রণ কাজের পাশাপাশি সরকারী, আধা-সরকারী ও শ্বায়ত্ত-শাসিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মুদ্রণ কাজ নির্ধারিত রেটে সম্পাদন করা হয়। ছাপাখানায় অত্যাধুনিক মুদ্রন মেশিন সংযোজিত হওয়ায় প্রেসের উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন গতিশীলতা বৃদ্ধিতে প্রেসের উল্লেখযোগ্য প্রি-প্রেস মেশিন, মুদ্রণ মেশিন এবং পোস্ট প্রেস মেশিনারী স্থাপন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রেসকে একটি অত্যাধুনিক প্রেসে রূপান্তর করা হয়েছে।

  1. প্রি-প্রেস মেশিন কম্পিউটার (ম্যাকিনটস) ৫টি, কম্পিউটার (--)৪টি, এইচ পি লেজার প্রিক্রার  লেজার রাইটার-১১) ২টি, ল্যাপটপ ম্যাকিনটস ২টি, কম্পিউটার সার্ভার, ফ্লাড-বেড সক্যানার ২টি, সেমি অটো নাইফ গ্রাইন্ডার, অটো এক্সপোজার ভার্টিক্যাল ক্যামেরা, কম্পনিকা ৬৮০ সি ভ্যাকুয়াম প্রিন্টিং ডাউন ফ্রেম  (পেসণট  এস্কপোজার), অটো পেস্নট প্রসেসর, --- (কম্পিউটার টু প্লেট)। এছাড়া ডিজিটাল সিকিউরিটি সংক্রান্ত ২টি আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর, ৮টি সিসি ক্যামেরা, ১টি এক্সেস কন্ট্রোল মেশিন ও ১২টি ৫টনি স্প্লিট টাইপ এয়ার কন্ডিশনার স্থাপিত হয়েছে।
  2. প্রিন্ট্রিং মেশিন: হাইডেলবার্গ: মেশিন (এস.এম-২৭৪) ১টি, হাইডেলবার্গ (এস,এম ২৭৪) ৪টি, বাইকালার পলি অফসেট প্রেস ১টি, বাইকালার ডিমাই এডাস্ট ১৪টি,দুই রং এর ও এম.আর মিনি অফসেট মেশিন।
  3. পোস্ট প্রেস মেশিন: ফুল অটোমেটিক ফোল্ডিং মেশিন ১টি, ফয়েল প্রিন্টিং মেশিন ১টি, স্টিচিং মেশিন ২টি, চায়না পেপার কাটিং মেশিন ২টি, ওপিআই পেপার কাটিং মেশিন ১টি ও হাইস্পীড কম্পিউটার কন্ট্রোল পেপার কাটিং মেশিন ১টি।
  4. ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রেস পরিচালনার  জন্য একজন পরিচালকের নেতৃত্বে প্রেসে ৫ জন কর্মকর্তা ২ জন ইঞ্জিনিয়ার এবং ৯৬ জন কর্মচারী রয়েছে। প্রেসটি বর্তমানে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে প্রেসকে আধুনিকীকরণ করা হলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রেস প্রকাশনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

যাকাত ফান্ড বিভাগ

         ১৯৮২ সালের ৫ জুন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এক অধ্যাদেশ বলে যাকাত ফান্ড গঠন করবেন এবং এ ফান্ড পরিচালনার জন্য উক্ত অধ্যাদেশে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট যাকাত বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ড-এর সিদ্ধান্ত সমূহ সদস্য-সচিব তথা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক যথানিয়মে বাস্তবায়ন করে থাকেন। যাকাত ফান্ড অর্ডিন্যন্স ১৯৮২ সাল থেকে ৬৪ জেলায় বৃত্তবানদের নিকট হতে সংগৃহীত মোট অর্থের অর্ধেক পরিমাণ অর্থাৎ অর্ধেক পরিমাণ অর্থাৎ ৫০% অর্থ সরাসরি জেলা যাকাত কমিটির মাধ্যমে গরীব ও অসহায়দের মদ্যে বিতরণ করা হয়। জেলা যাকাত কমিটি যাকাত আদায় ও বিতরণ কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাছাড়া আর্থিক সাহায্য প্রাপ্তির জন্য যারা যাকাত বোর্ড কার্যালয়ে আবেদন করে থাকেন,তাদের আবেদনসমূহ সংশ্লিষ্ট জেলা কর্তৃক যাচাই-বাছাই পূর্বক জেলা যাকাত কমিটির মাধ্যমেই বিতরণের জন্য প্রদান কার্যালয় হতে অর্থ প্রেরন করা হয়ে থাকে। যাকাত ফান্ডের একটা নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ দ্বারা টঙ্গী যাকাত বোর্ড শিশু হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। যাকাতের অর্থে বিভিন্ন জেলায় ২৩টি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়ে থাকে।

১৯৮২ সাল তেকে ২০১৩-১৪ অর্ত বছর পর্যন্ত যাকাতবোর্ড কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ ১৩,২২,৫৩,৭৬২/- টাকা, উপকারভোগীর সংখ্যা ৭,১৮,৮০৬ জন। যাকাত ফান্ডের সংগৃহীত অর্থ দ্বারা পরিচালিত কাযক্রম সমূহ নিম্নরূপ:

১. যাকাত বোর্ড শিশু হাসপাতাল: এ কাযক্রমের আওতায় টঙ্গীস্থ শিশু হাসপাতাল পরিচালনার মাধ্যমে দু:স্থ শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১৩-১৪ অর্ত বছর পর্যন্ত দু:স্থ শিশুদের চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয়েছে ১,০৮,৪১,৯৬০/- টাকা এবং উপকারভোগীর সংখ্যা ৬,৫৯,১৫৪ জন।

২. সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম (২৩টি কেন্দ্র):

২. এ কার্যক্রমের আওতায় ২১ জেলায় ২৩টি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে দু:স্থ মহিলাদের কর্মক্ষম করার ক্ষেত্রে সহয়তা প্রদান করা হচ্ছে। শুরু থেকে ২০১৩-১৪ অর্থ বছর পর্যন্ত ১,৭৭,১৮,০০০/- টাকা ব্যয়ে ১৭,৭৩৫ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েরছ।

৪. পুর্নবাসনের উদ্দেশ্যে সেলাই প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী দু:স্থ মহিলাদের সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ২০১০-১১ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৫১,৬৭,৫০০/- টাকা ব্যয়ে ৯২১ জনকে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে।

৫. প্রতিবন্ধী পুর্নবাসন: প্রতিবন্ধীদের আর্থিক সহয়তার মাধ্যমে পুনর্বাসন কর্মসূচীর আওতায় ১১,০০,০০০/- টাকায় এ পর্যন্ত ২২০ জনকে পুর্নবাসনের লক্ষ্যে সহয়তা করা হয়েছে।

৬. দু:স্থ পুরুষদের কর্মসংস্থান কার্যক্রম: রিকসা/ভ্যানগাড়ী ক্ষুদ্র ব্যবসায় পুঁজি প্রদানের নিমিত্ত জেলা যাকাত কমিটির মাধ্যমে দু:স্থ পুরুষদের কর্মসংস্থানের জন্য ১,৩৩,৩৭,০৮৮/- টাকা ব্যয়ে ২৪৩৭ জনকে সহয়তা করা হয়েছে।

৭. যাকাত ভাতা: হাঁস মুরগী, গরু-ছাগল পালন, সেলাই মেশিন প্রদানের মাধ্যমে বিধবাসহ দু:স্থদের সমাজ জীবনে পুনর্বাসনের নিমিত্ত ১,৪৯,৯৮,০২০/- টাকা ব্যয়ে ৭৩০২ জনকে সহয়তা করা হয়েছে।

৮. শিক্ষাবৃত্তি প্রদান (ছাত্র/ছাত্রী): দরিদ্র মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদেরকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে ১,২০,৪৭,৪৮১/- টাকায় ১৫৪২২ জনকে সহয়তা করা হয়েছে।

৯.  নওমুসলিম স্বাবলম্বীকরণ কার্যক্রম: দু:স্থ নওমুসলিদের আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা দানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের নিমিত্ত ১৮,৪০,০০০/- টাকায় ১৮৪ জনকে সহয়তা করা হয়েছে।

১০. দু:স্থ ও গরীব রোগীদের চিকিৎসা বাবদ আর্থিক সহয়তা কার্যক্রম দু:স্থ, অসহায় গরীব রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্যে ৪০,০৯,১৪৩/- টাকায় আর্থিক সহয়তার মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হয়েছে ৯১৭ জনকে।

১১. ৩টি পার্বত্য জেলায় নওমুসলিমদের আর্থিক সাহায্য: ২০১১-১২ অর্থ বছর থেকে এ কার্যক্রমের আওতায় পার্বত্য জেলায় নওমুসলিমদের ২৩,০০,০০০/- টাকায় ৪৬০ জনকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করা হয়েছে।

১২. মঙ্গা/প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে ১,৫৩,০৪,২৭৩/- টাকায় ৫,৪৪৪ জনকে সহয়তা প্রদান করা হয়েছে।

১৩. বৃক্ষরোপন/নার্সরী সহয়তা কার্যক্রম: দু:স্থ অসহায় গরীব ইমামগণের বৃক্ষরোপন/নার্সারী বাবদ সহয়তার মাধ্যমে পরিবেশ উন্নয়নসহ অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১,৯৮৪ জনকে ২৪,২০,০০০/- টাকা আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়েছে।

১৪. এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৬৪টি জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে এ যাবৎ সংগৃহীত টাকার ৫০% টাকা প্রতিবনধী পুর্নবাসন, দু:স্থ পুরম্নষদের কর্মসংসত্মান কার্যক্রম, যাকাত বাতা, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, নওমুসলিম স্বাবলম্বীকরণ কার্যক্রম এবং দু:স্থ-গরীব রোগীদের চিকিৎসা বাবদ আর্থিক সহয়তা কার্যক্রম খাতে জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে।

১৯৮২ সাল থেকে ২০১৩-১৪ অর্থ বছর পর্যন্ত যাকাত বোর্ড এর কার্যক্রমের মাধ্যমে সর্বমোট ১৩,২২,৫৩,৭৬২/- টাকা ব্যয়ে ৭,১৮,৮০৬ জনকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়েছে।

৩. কোন নির্দিষ্ট বছরে অত্যাবশ্যকীয় ব্যয় নির্বাহের পর বৈধভাবে অর্জিত ৭.৫০ তোলা স্বর্ণ বা ৫২.৫০ তোলা রৌপ্য বা সমমূল্যের অর্থ সম্পদের মালিক হলে তার উপর শতকরা ২.৫০ ভাগ যাকাত আদায় করা ফরয। যাকাত বোর্ডের সকল কার্যক্রম ইসলামী শরীয়াহ মুতাবিক পরিচালিত হয়। পবিত্র কুরআনে সূরা আত-তাওবা’য় নির্ধারিত ৮টি খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করার জন্য বলা হয়েচছ। যাকাত বোর্ড বাস্তবতার আলোকে বিভিন্ন কার্যক্রম/কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে যাকাতের যাকাতের অর্থ নিঃস্ব ও অসহায়দের স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করা যাচ্ছে।

৪. (ক) রাষ্ট্রয়ত্ব সকল সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের যে যেকোন শাখায় ‘সরকারী যাকাত ফান্ড’শিরোনামে নির্ধারিত একাউন্ট নম্বরে যাকাতের অর্থ জমা নেয়া হয়। (খ) রশিদ প্রদানের মাধ্যমে নগদে অথবা চেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররমস্থ দপ্তরসহ আগারগাঁওস্থ যাকাত বোর্ড দপ্তরে এবং ৬৪ জেলা কার্যালয়ে যাকাতের অর্থ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। (গ) যাকাতের অর্থ আয়কর মুক্ত।

ইসলামিক মিশন

ইসলামের প্রচার ও প্রসারের লক্ষে ১৯৭৫ সালে ২২ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর বিগত ৪০ বছর ধরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১৬টি বিভাগের মাধ্যমে আর্থ সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষে মসজিদ ভিত্তিক গণশিক্ষা, ইসলামী প্রকাশনা, ইমাম প্রশিক্ষণ, ইসলামিক মিশন ইত্যাদি বিভাগের সহযোগিতায়সসেবামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও পরিচালনা করে আসছে।
 

ইসলামিক মিশন নিম্নোক্ত লক্ষে ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেঃ
 

  1. বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, রোগ নির্ণয় ও ঔষধ প্রদান 
  2. দুস্থ মহিলাদের সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান।
  3. মসজিদ ভিত্তিক মক্তবে শিক্ষা প্রদান।
  4. দুঃস্থ মানবতার সেবা।
  5. দারিদ্র দূরীকরণ ও আর্থিক সচ্ছলতা অর্জনে সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণদান।
  6. নিরক্ষতা দূরীকরণ।
  7. মিশন কেন্দ্রিক এবতেদায়ী মাদরাসা  প্রতিষ্ঠা
  8. জাতীয় ও ধর্মীয় দিবস উদযাপন।
  9. সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের নিকট ইসলামের শান্তির বাণী প্রচার।

            বর্তমানে দেশের ৩২টি জেলার ৪০টি মিশন কেন্দ্রের মাধ্যমে উল্লেখিত কর্মসূচী বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১৯৮৩ সাল থেকে জুন ২০১৫ পর্যন্ত ইসলামিক মিশনের মাধ্যমে সারা দেশে ২ কোটি ৩৪ লক্ষ ২১ হাজার ৪৮৩  জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। চক্ষু শিবিরে ৪৪ হাজার ৩৪৮ জনকে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।  ১৫,৩২০ জন মহিলাকে সেলাই প্রশিক্ষণ, ৩১২ জনকে সুদমুক্ত ঋণদান, ১,৬৮৭ জনকে মোবাল্লিগ ও ৯১৮ জন মক্তব শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।  ৩০,০৮০টি বৃক্ষ রোপন এবং মসজিদভিত্তিক মক্তবে ২,২৫,০৪৭ শিশুকে পাঠদান করা হয়েছে।

জাতীয় ও ধর্মীয় দিবস উদযাপনঃ

ইসলামিক মিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় দিবস উদযাপিত হয়। এ ধরনের অনুষ্ঠানে  রাষ্টের শান্তি, শৃঙখলা, সামাজিক মূল্যবোধ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। ধর্মীয় দিবস উদযাপনের মাধ্যমে ইসলামী মূল্যেবোধের প্রচার ও প্রসারের লক্ষে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ছাত্র/ছাত্রীরদের আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার জন্য উৎসাহিত  করা হয়। 

বায়তুল মুকাররম মসজিদ ও মার্কেট

রাজধানী ঢাকায় একটি বৃহৎ মসজিদ নির্মাণ এবং এর মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষার প্রচার ও প্রসার, ইসলামী পুস্তক ও সাময়িকী প্রকাশ, মুসলিম বেকারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, দারম্নল উলুম ও দারম্নল ইফতা প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি ব্যাপক কর্মসূচীকে সামনে রেখে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাময়িক আইন প্রশাসক মেজর জেনারেল ওমরাও খান এর পৃষ্ঠপোষকতায় এবং আলহাজ্জ আবদুল লতিফ ইবরাহীম বাওয়ানী প্রমুখ শিল্পপতির উদ্যোগে ১৯৫৯ সালে ‘বায়তুল মুকাররম সোসাইটি’ নামক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদ নির্মাণ ও উল্লেখিত কর্মসমূহের ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য মসজিদ সংলগ্ন একটি মার্কেটও প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯৬০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে এ মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ আইয়ুব খান। বায়তুল মুকাররম কমপ্লেক্স এর নকশা প্রণয়ন করেন প্রখ্যাত স্থপতি জনাব আবুল হোসেন থারিয়ানী। সরকারি উন্নয়ন প্রল্পের আওতায় এবং সৌদি সরকারের অর্থায়নে ৮.৩০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত সাত তলা বিশিষ্ট এ মসজিদের শোভাবর্ধন এবং উন্নয়নের কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মূল মসজিদ এবং উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব সাহান মিলিয়ে সর্বমোট পঁয়ত্রিশ সহস্রাদিক মুসল্লী একত্রে নামায আদায় করতে পারেন। মসজিদের অভ্যন্তরে ওযুর ব্যবস্থাসহ মহিলাদের জন্য পৃথক নামায কক্ষ ও পাঠাগার রয়েছে। মসজিদের নিচতলায় রয়েছে একটি বৃহত্তর অত্যাধুনিক ও সুসজ্জিত মার্কেট কমপ্লেক্স। একজন পরিচালক এ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জনসংযোগ শাখা

জনসংযোগ শাখাটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটির নীতি-আদর্শ সম্বলিত বিভিন্ন তথ্য, তথ্য সম্বলিত সংবাদ, প্রতি মাসে চাঁদ দেখার সংবাদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রেস রিলিজ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রেরণ করা এ শাখার প্রধান কাজ। এছাড়াও জনসংযোগ করার জন্য সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে এ শাখার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হয়।

ছবি


সংযুক্তি



Share with :

Facebook Twitter